👉শ্রীল ভক্তিসিদ্ধান্ত সরস্বতী ঠাকুরের মহিমা

আবির্ভাব :
শ্রীল ভক্তিসিদ্ধান্ত সরস্বতী ঠাকুর শ্রীক্ষেত্র ধামে (জগন্নাথ পুরী) ১৮৭৪ খ্রিস্টাব্দের ৬ই ফেব্রুয়ারি শ্রীল সচ্চিদানন্দ ভক্তিবিনোদ ঠাকুরের পুত্ররূপে আবির্ভূত হন। তাঁর শৈশবে তিনি দ্রুত বেদ আয়ত্ত করেন, ভগবদগীতা মুখস্থ করেন এবং তাঁর পিতার দার্শনিক কার্যের স্বাদ আস্বাদন করেন। তিনি তাঁর বিশাল জ্ঞানের জন্য “জীবন্ত জ্ঞানকোষ” হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তিনি বিমলা প্রসাদ হিসেবে জন্মগ্রহণ করেন যার অর্থ হল জগন্নাথ প্রসাদ।

প্রচারক:

ভক্তিসিদ্ধান্ত সরস্বতী ঠাকুর ছিলেন একজন প্রগতিশীল প্রচারক। যখন তাঁকে কোন রাজা ও জমিদারের সাথে মিশতে হত, তিনি একটি লম্বা কোট পরতেন এবং যখন তিনি রাধাকুণ্ডে বাবাজীদের সাথে দেখা করতে যেতেন তখন তিনি খালি পায়ে যেতেন এবং একজন সন্ন্যাসীর মতো যৎসামান্য বস্ত্র পরতেন। তাঁর ইংরেজি ছিল অত্যন্ত প্রথমযুগীয়। প্রকৃতপক্ষে অনেক মানুষের নিকটেই তাঁর লিখিত ইংরেজি পড়া কঠিন ছিল, তিনি ছিলেন এমনই একজন বিদ্বান পণ্ডিত। তাই বিভিন্ন পরিস্থিতিতে তিনি বিভিন্ন উপায়ে প্রচার করতে পারতেন। তিনি ভারতের অনেক স্থানে গৌড়ীয় মঠ প্রতিষ্ঠা করেন। গৌড়ীয় মঠ শীঘ্রই এর ১০০তম সুবর্ণজয়ন্তীতে পৌঁছাবে।

শ্রীল প্রভুপাদ:
যখন প্রভুপাদ একজন গৃহস্থ ছিলেন তখন তিনি ভক্তিবেদান্ত স্বামী প্রভুপাদকে বলেন যে, যদি তিনি পাশ্চাত্যে প্রচার করেন, তবে তা তার জন্য এবং যারা তাকে সাহায্য করবে তাদের সকলের জন্য পারমার্থিকভাবে অত্যন্ত মঙ্গলজনক হবে।

ভক্তিসিদ্ধান্ত সরস্বতী ঠাকুর তাঁর দেহত্যাগের দুই থেকে তিন বছর আগে ঘোষণা করেন যে, আমার শিষ্যদের মধ্যে একজন পাশ্চাত্য বিশ্বে যাবে এবং প্রচার করবে এবং পৃথিবীর পাশ্চাত্যদেশ থেকে মানুষেরা এসে নবদ্বীপ পরিক্রমায় অংশগ্রহণ করবে। বিশ্বের সর্বস্থান থেকে মানুষ নবদ্বীপ পরিক্রমায় অংশগ্রহণ করবে এবং তারা সকলে একত্রে ধ্বনিত করবে, “জয় শচীনন্দন, জয় শচীনন্দন” এবং তারা তাদের ভারতীয় ভ্রাতাদের আলিঙ্গন করবে এবং সেখানে জাতি, বর্ণ, ধর্ম সম্পর্কিত কোন বিদ্বেষ থাকবে না। সেটি ছিল সম্ভবত ১৯১২ খ্রিস্টাব্দের কথা।

ভাব:
ভক্তিসিদ্ধান্ত সরস্বতী ঠাকুর কখনো কখনো বলতেন, “এটি কোন ধরণের ভক্তের লক্ষণ যে কেবল জপ করতে চায় এবং পতিত জীবদের উদ্ধার করতে চায় না?”

জয়পতাকা স্বামী কর্তৃক প্রদত্ত প্রবচনের উদ্ধৃতাংশ
শ্রীধাম মায়াপুর,
১৫ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৭।

শ্রীল প্রভুপাদ তাঁর পারমার্থিক গুরু, শ্রী শ্রীমৎ ভক্তিসিদ্ধান্ত সরস্বতী ঠাকুরের, মহিমা বর্ণিত করে গেয়েছেন:
“শ্রী সিদ্ধান্ত সরস্বতী শচী সুত প্রিয় অতি
কৃষ্ণ সেবায় যার তুল্য নাই
সেই সে মোহান্ত-গুরু জগতের মধ্যে ঊরু
কৃষ্ণ ভক্তি দেয় ঠাঁই ঠাঁই”
শ্রী শ্রীসিদ্ধান্ত সরস্বতী ঠাকুর, যিঁনি শচীমাতার পুত্র ভগবান শ্রীগৌরাঙ্গের অতি প্রিয়, তিনি পরম পুরুষোত্তম ভগবান শ্রীকৃষ্ণের সেবায় অতি অতুলনীয়। তিনি হচ্ছেন মহান গুরু যিঁনি সারা বিশ্বের সর্বত্র অতি গুহ্য কৃষ্ণভক্তি অকাতরে বিতরণ করছেন।
উপরের এই গানটি শ্রীল প্রভুপাদের দুটি মহান গানের একটি যেটি তিনি রচনা করেছিলেন আমেরিকায় প্রচারের উদ্দেশ্যে জলদূত নামক জাহাজে প্রথমবারের মত যাত্রা করার সময়। এই গানে স্পষ্টভাবে প্রতীয়মান যে শ্রীল প্রভুপাদ তাঁর গুরু প্রদত্ত বাণীতে কি পরিমানে পূর্ণরূপে নিবিষ্ট ছিলেন এবং গুরু ও গুরুর নির্দেশের প্রতি তাঁর কি পরিমাণ পূর্ণ বিশ্বাস ও শরণাগতি ছিল, যদিও যাত্রাকালে তাঁর সাথে মাত্র ৮ আমেরিকান ডলার এবং গুটিকয়েক শ্রীমদভাগবত সেট ছাড়া আর কিছুই ছিল না, তথাপি তাঁর সাথে ছিল গুরু প্রদত্ত আশীর্বাদ এবং ১৯২৩ সালে প্রথম সাক্ষাতেই প্রাপ্ত পাশ্চাত্যে কৃষ্ণনাম প্রচারের সেই অমোঘ বাণী:
শ্রী শ্রীমৎ ভক্তিসিদ্ধান্ত সরস্বতী ঠাকুরের সাথে প্রথম সাক্ষাতেই তাঁকে প্রণতি সম্পন্ন করে সঠিকভাবে দাঁড়ানোর আগেই তিনি শ্রীল প্রভুপাদকে নির্দেশ দিলেন তিনি যেন ইংরেজী ভাষাভাষীদের মধ্যে এই হরিনাম বিতরণ করেন, প্রকৃতপক্ষে যেটি ছিল ৫০০ বছর আগে ভগবান শ্রীচৈতন্যের’ই নির্দেশ-“পৃথিবীতে আছে যত নগরাদি গ্রাম, সবত্র পচার হইবে মোর নাম”।
এরূপে প্রমাণিত হয় যে ভগবান শ্রীচৈতন্যের বাণীতে শ্রীল ভক্তিসিদ্ধান্ত সরস্বতী ঠাকুরের কত গভীর বিশ্বাস ছিল।
ভক্তিসিদ্ধান্ত সরস্বতী ঠাকুর ছিলেন দৃঢ়সংকল্পের পরাকাষ্ঠা, যিনি আজীবন ব্রহ্মচর্য্যকে নিজের জীবনের ব্রত হিসেবে নিয়েছিলেন এবং তা অত্যন্ত কঠোরভাবে পালন করেছিলেন।“
১৯১৪ সালের ২২ জুন শ্রীল ভক্তিবিনোদ ঠাকুর ভগবান শ্রীকৃষ্ণের ভক্তিভাবে সম্পূর্ণ নিমজ্জিত অবস্থায় এই ধরাধাম ত্যাগ করেন। তারপর, ১৭ই নভেম্বর ১৯১৫ সালে, পবিত্র ঊত্থান একাদশী তিথি’তে শ্রীল গৌড়কিশোর দাশ বাবাজী দেহ ত্যাগ করেন। তাঁর দেহ একটি সমাধি সৌধে শায়িত করানো হয়। কিন্তু ১৬ বছর পর বন্যার কারণে তাঁর এই সমাধি স্থানান্তর করার প্রয়োজন হয়। স্থানীয় কিছু বাবাজীরা এই সমাধির দাবী নিয়ে কলহ করছিলেন, কিন্তু ভক্তিসিদ্ধান্ত সরস্বতী ঠাকুর অত্যন্ত দীপ্তকন্ঠে সকলকে অকপটে বললেন, “আমি পরমহংস বাবাজী মহারাজা’র একমাত্র শিষ্য। যদিও আমি এখনও সন্যাস গ্রহণ করিনি, তথাপি আমি একজন নৈষ্ঠিক ব্রহ্মচারী, এবং বাবাজী মহারাজার কৃপায় আমার কোন ঘৃণ্য বস্তুতে গোপন আসক্তি নেই, অথবা আমি বানরের মত কোন ব্যাভীচারী বা লম্পট নই। যদি আপনাদের মধ্যে এমন কেউ থাকেন যিনি দৃঢ় চরিত্রের অধিকারী, শুধুমাত্র তিনিই এই সমাধির দাবি করতে পারবেন। আমাদের এতে কোন আপত্তি নেই। যিনি গত এক বছরে কোন অবৈধ স্ত্রীসঙ্গ করেননি, বা গত ছয় মাসে বা গত তিন মাসে বা গত ‌এক মাসে বা অন্ততপক্ষে গত ৩ দিন কোন অবৈধ স্ত্রীসঙ্গ করেন নাই, শুধুমাত্র তিনিই এই পরম দিব্য দেহ স্পর্শের যোগ্য। এর বাহিরে যারাই এই দেহ স্পর্শ করবে তারা তৎক্ষণাৎ ধ্বংসপ্রাপ্ত হবে।” এই কথা শ্রবণের পর উক্তস্থানে সুষ্ঠু বিচারের দায়িত্ত্ব পালনে আসা একজন পুলিশ উনাকে প্রশ্ন করলেন, “আপনি কিভাবে তাদের যোগ্যতার প্রমাণ করবেন?” শ্রীল ভক্তিসিদ্ধান্ত সরস্বতী ঠাকুর উত্তর দিলেন, “তাদের কথায় আমার পূর্ণ বিশ্বাস রয়েছে।” এই কথা শ্রবণের পর উপস্থিত সকল ভন্ড বাবাজীরা বিনা বাক্যব্যয়ে একে একে ঐ স্থান পরিত্যাগ করলেন।

শ্রীল ভক্তিসিদ্ধান্ত সরস্বতী ঠাকুরের উদ্ধৃতিসমূহ

১. শিক্ষাষ্টকমে শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর শিক্ষা – ‘পরম বিজয়তে শ্রীকৃষ্ণসংকীর্তনম্’ গৌড়ীয় মঠের একমাত্র নীতিবাক্য।

২. পরম পুরুষোত্তম ভগবান শ্রীকৃষ্ণ একমাত্র ভোক্তা। প্রত্যেকে এবং সবিকিছুই তাঁর ভোগ্যবস্তু।

৩. যে পরমেশ্বর ভগবানের আরাধনা করেন না, সে অজ্ঞ এবং আত্মহন্তা।

৪. সহ্য করার শিক্ষা লাভ করা মঠে অবস্থানকৃত ব্যক্তির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।

৫. রুপানুগ ভক্তগণ তাঁদের নিজ শক্তিমত্তায় নির্ভর করার পরিবর্তে আদি উৎসকে সব প্রশংসা নিবেদন করেন।

৬. যারা হরেক রকম (পাঁচমিশালী) ধর্মীয় আচরণবিধির অনুষ্ঠান করে, তারা পরমেশ্বর ভগবানের প্রতি সেবা অনুষ্ঠান করতে পারে না।

৭. একটি অভীষ্ট লক্ষ্যে একত্রিত হও এবং শ্রীহরির সেবা সম্পাদন কর।

৮. যেখানে শ্রীহরি সম্পর্কিত আলোচনা হয়, সেটি তীর্থস্থানে পরিণত হয়।

৯. আমরা পুণ্যবান বা পাপী অথবা বিদ্বান বা মূর্খ নই, আমরা পরমেশ্বর ভগবান শ্রীহরির পদরেণুর বাহক এবং আমরা ‘কীর্তনিয়া সদা হরিঃ’ মন্ত্রে দীক্ষিত।

১০. আমার উপদেশ হচ্ছে – অন্যদের সমালোচনা করো না। নিজেকে শোধরানোর চেষ্টা করো।

১১. আমাদের পরম দায়িত্ব হচ্ছে ব্রজবাসীদের সেবা করা যারা শ্রীকৃষ্ণের বৃন্দাবন ছেড়ে মথুরা যাত্রায় ব্যথিত হয়েছিলেন।

১২. একজন শুদ্ধ ভক্ত জানেন যে প্রত্যেকেই আধ্যাত্মিক গুরু, যার ফলে একজন শুদ্ধভক্ত জগদ্গুরু হতে পারেন।

১৩. যদি আমরা সত্য প্রকৃষ্টতার পথ অনুসরণ করতে চাই, মানুষের অগণিত মতামতকে আমাদের বর্জন করতে হবে এবং শুধুমাত্র বেদবাণী শ্রবণ করতে হবে।

১৪. মঙ্গলকর যেকোন কিছুই আকাঙ্ক্ষিত।

১৫. একজন অন্তরঙ্গ ভক্তের শ্রীল রূপ গোস্বামীর অনুসারীদের সেবা করা ব্যতীত অন্য কোনো বাসনা থাকে না।

১৬. শ্রবণ ব্যতীত চিন্ময় সম্বন্ধের অন্য আর উপায় নেই।

১৭. যত শীঘ্র আমরা রক্ষাকর্তার আশ্রয় হারাব, আমাদের চারদিকের সবকিছু আমাদের শত্রু হয়ে যাবে এবং আমাদের আক্রমণ করবে। তত্ত্বদ্রষ্টা সাধু কর্তৃক উচ্চারিত কৃষ্ণ-সম্বন্ধীয় আলোচনাই একমাত্র রক্ষক।

১৮. একজন চাটুকার কখনই একজন গুরু বা প্রচারক হতে পারে না।

১৯. প্রতারক হওয়ার চেয়ে পশু, পাখি, কীটপতঙ্গ প্রভৃতি লক্ষ প্রজাতিতে অবস্থান করা শ্রেয়। যে প্রতারণা থেকে মুক্ত, তিনি মঙ্গল লাভ করেন।

২০. বৈষ্ণবত্ব সরলতার আরেক নাম। পরমহংস বৈষ্ণবদের সেবকরা সরল; সেই কারণে তাঁরা শ্রেষ্ঠ ব্রাহ্মণ।

২১. কৃপালু ব্যক্তিদের একমাত্র কর্তব্য হচ্ছে অধঃপতিত জীবদের পরিবর্তন করা। যদি তুমি অন্তত একজন ব্যক্তিকে মহামায়ার প্রবল প্রভাব থেকে রক্ষা করতে পার, সেটি লক্ষ হাসপাতাল তৈরির থেকে অধিক মানবহিতৈষী হবে।

২২. যারা আত্মবোধশক্তির দ্বারা পরমেশ্বর ভগবানকে সেবা করার স্বাভাবিক প্রবৃত্তির উন্নয়ন করার শিক্ষালাভ করেননি, তাদের সঙ্গ যতই আনন্দদায়ক হোক না কেন, তা কামনা করা অনুচিত।

২৩. আচরণ ব্যতীত প্রচার কর্মকাণ্ডের অনুষ্ঠান ব্যতীত আর কিছুই নয়।

২৪. যদি কেউ শুধুমাত্র পরম পুরুষোত্তম ভগবান এবং তাঁর ভক্তদের সেবা করেন, তাঁর সংসারের প্রতি আসক্তি হ্রাসপ্রাপ্ত হয়।

২৫. আমাদের প্রধান রোগ হচ্ছে কৃষ্ণ-সম্বন্ধীয় নয় এমন বস্তু সংগ্রহ করা।

২৬. আমরা কাঠ বা পাথরের কারুশিল্পী হওয়ার জন্যে এই পৃথিবীতে আসিনি, আমরা শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর কৃপার মজুর (পিয়ন) মাত্র।

২৭. আমরা এই পৃথিবীতে বেশিদিন থাকব না। যদি আমাদের এই দেহ পরমেশ্বর ভগবান শ্রীহরির গুণমহিমা কীর্তন করে, তাহলে আমাদের এই জন্ম সার্থক হবে।

২৮. আমাদের জীবনের একমাত্র কাম্য বস্তু হচ্ছে শ্রীল রূপ গোস্বামীর চরণকমলের ধুলিকণা সংগ্রহ করা, যিনি শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর ইচ্ছাকে বাস্তবায়িত করেছেন।

২৯. এই জড় প্রকৃতি, যেটি পরম পুরুষোত্তম ভগবান বিমুখী, একটি পরীক্ষাগার। সহিষ্ণুতা, বিনম্রতা, অন্যদের মূল্যায়ণ করা – এগুলি শ্রীহরির প্রতি আমাদের ভক্তির উন্নয়নের পক্ষে সহায়ক।

৩০. প্রত্যেক জন্মেই সকলে একজন বাবা ও একজন মা পেয়ে থাকে। কিন্তু অন্তিম অনুগ্রহ বা চূড়ান্ত কল্যাণের শিক্ষা কেউই লাভ করেনা।

পরিশেষে সেই গৌড়ীয় সিংহের নিকট প্রার্থনা, সিংহের গর্জনে যেমন বনের সকল পশু ভীত হয়ে পলায়ন করে তদ্রূপ যাবতীয় অবিদ্যা,কুশিক্ষা,কৃষ্ণবহির্মুখ চেতনা, ইন্দ্রীয় ও রিপুর তাড়ন এ পামরকে ত্যাগ করুক এবং শ্রীশ্রী রাধা-শ্যামসুন্দর ভগবান জীর প্রতি সুপ্ত প্রেমভক্তি জাগ্রত হোক 🙏🙏🙏🙏🙏।

হরেকৃষ্ণ 🙇🙌👏