#বৈবাহিক_বা_সাংসারিক_জীবনে_সুখী_হওয়ার_জন্য_এই_সাতটি_সহজ_সত্য_মেনে_নিন....!!!
প্রথমত,
বিয়ের পরপরই আপনি আপনার অতীতকে ভুলে যান। কেননা, ইতিমধ্যেই আপনার নতুন জীবন শুরু হয়েছে।পূর্ববর্তী জীবনের সকল আবেগ/অনুভূতি/অনুসূচনা/পাওয়া না পাওয়ার মেমোরিটা ফরমেট দিয়ে ফেলুন। এবং নতুন সাথীকে নিয়ে আগামী দিনগুলো পারি দেয়ার পরিকল্পনা করুন।
🌷দ্বিতীয়ত,
শ্রীকৃষ্ণের পরেই আপনি আপনার স্বামী/স্ত্রীকে গুরুত্ব দিন। কৃষ্ণ ছাড়া স্বামী/স্ত্রীর থেকে অধিক গুরুত্ব আর কোন মানুষকে দিবেন নাহ্। স্বামী/স্ত্রীর থেকে অন্যকেউ আপনাকে অধিক ভালোবাসে স্বপ্নেও তা ভাববেন নাহ্। স্বামী/স্ত্রীর চেয়ে অন্যকাউকে বেশি আপন মনেকরবেন নাহ্। কেননা, আপনারা এখন একি নৌকার মাঝি। এই সংসার নামক ভব সাগর আপনাদের দুজনকে মিলেই পারি দিতে হবে। সকল আপদ বিপদ দুজনকেই মোকাবেলা করতে হবে। তাই স্বামী/স্ত্রীর চেয়ে ভালো বন্ধু মানুষের মধ্যে আর কে হতে পারে...???
🍂তৃতীয়ত,
বিয়ের পর আপনার ব্যক্তিগত বা গোপনীয়তা বলে কিছু রাখবেন নাহ। হউক সেটা আই ডি পাসওয়ার্ড বা অন্যকিছু। কেননা, এতে অবিশ্বাস জন্মায় এবং এক পর্যায় তা বৃহৎ আকার ধারণ করে সংসারে চরম অশান্তি সৃষ্টি করে। তাই আপনার যাকিছু আছে সব একে অপরের সাথে শেয়ার করুন। মনে রাখতে হবে সংসার দুদিনের না। অনেক দুর পারি দিতে হবে দুজন মিলে। তাই কিছু লুকিয়ে রেখে বেশি দুর যাওয়া যাবে নাহ্।
🌹চতুর্থত,
আপনি যেহেতু সংসার নামক একটি কঠিন বাস্তবতায় প্রবেশ করেছেন এজন্য আপনাকে সবসময় সেক্রিফাইজ করার জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে। হয়ত একে অপরের কিছু দিক থেকে মিল অমিল থাকতে পারে৷ ধরুন একজন মিষ্টি খেতে পছন্দ করে না। আবার একজন গরম সহ্য করতে পারে না। আবার একজন ফাইজলামি পছন্দ করে নাহ। অথবা আপনি চাহিদা মোতাবেক তার কাছ থেকে কোন কিছু পাচ্ছেন না। ইত্যাদি বিষয়গুলো আপনাকে মেনে নিতে হবে। এবং আন্তরিকতা ও ভালোবাসা দিয়ে তাকে আপনার মতো করে গড়ে নিতে হবে। মনে রাখতে হবে ভালোবাসা দিয়ে পৃথিবী জয় করা যায়।
🌳পঞ্চমত,
আপনি আপনার স্বামী/স্ত্রীর পূর্ব জীবনের সকল অপরাধকে ক্ষমা করে দিন। এবং তার অতীত নিয়ে ঘাটবেন নাহ। যদি বিয়ের আগে আপনার স্বামী/স্ত্রী ভুল কিছু করেও থাকে তাহলে তা নিয়ে বেশি ভাববেন না। কারণ, আপনারা ইতিমধ্যেই অতীতকে কবর দিয়ে দিয়েছেন। বরং আপনি তাকে এমন ভাবে ভালোবাসা দিন সে যেন সংশোধন হয়ে যেতে পারে। এবং নতুন কোন ভুল না করে। মনে রাখবেন ভুল মানুষই করে।
🥀ষষ্ঠমত,
একজন সতী স্ত্রী হিসেবে আপনি আপনার স্বামীর পরেই আপনার শশুড় শ্বাশুড়ি বা স্বামীর পরিবারের লোকজনদের অধিক গুরুত্ব দিন। মাতা সীতাও তাই শিক্ষা দিয়েছিলেন। ভুল করেও শশুড় বাড়ির লোকদের থেকে বাপের বাড়ির লোকদের অধিক গুরুত্ব দিবেন নাহ। বর্তমানে পরিবারের বেশির ভাগ অশান্তির জন্য এই মনোভাব দ্বায়ী। কিন্তু তাই বলে এই নয় বাপের বাড়ির সবাইকে ভুলে যেতে হবে। স্বামীরও উচিৎ শশুড় বাড়ির সবাইকে যত্নের সহিত গুরুত্ব দেয়া। বুদ্ধিমান তো তারাই যারা তীক্ষ্ণ বুদ্ধিমত্তার দ্বারা সবাইকেই সন্তুষ্ট রাখতে পারে।
☘️🌹সপ্তমত,
আপনাদের মনে রাখতে হবে বিবাহের আসল উদ্দেশ্য কুকুর বিড়ালের মতো ইন্দ্রিয় তৃপ্তি করা নয় বরং বিবাহের আসল উদ্দেশ্য হচ্ছে কৃষ্ণভক্ত সন্তান উৎপাদন করা এবং কৃষ্ণভক্তি করা। যেহেতু বিবাহের প্রধান উদ্দেশ্য কৃষ্ণভক্তি করা সেহেতু সংসার জীবনে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব কৃষ্ণভক্তিকেই দিতে হবে। সদ্ গুরুর চরণাশ্রিত হয়ে মঙ্গল আরতি, জপ, শাস্ত্র পাঠ, বৈষ্ণব সেবা, ধাম দর্শণ, কৃষ্ণকথা প্রচার ইত্যাদি বিষয়গুলোকে বিশেষ ভাবে গুরুত্ব দিতে হবে। মনে রাখতে হবে এই জগৎ দুঃখালয়। এখানে সুখে থাকা অসম্ভব। কিন্তু যদি নিষ্পাপ হয়ে কৃষ্ণভক্তি করা যায় তবেই সুখী হওয়া সম্ভব। ধর্মের ক্ষেত্রে স্ত্রীকেই বেশি আগ্রহী হতে হবে।কেননা নারীর মন কোমল। আর শ্রীকৃষ্ণের সবচেয়ে শ্রেষ্ট ভক্ত নারীরাই। বলা হয়ে থাকে সংসার সুখের হয় রমনীর গুনে। আর আমি এর সাথে একটু যোগ করে বলি সংসার সুখের হয় রমনীর গুণে,,, কৃষ্ণভক্ত স্বামী যদি থাকে তার সনে।
🙏🙏🙏পরিশেষে বলব,,,,,,সংসার জীবন খুব কঠিন জীবন। রোগ-শোক-জরা-অভাব-অনটন-ঝগড়া-বিবাদ ইত্যাদি সবসময়ই আমাদের দুঃখের সম্মূখীন করে । কিন্তু আমরা যদি নির্মল চিত্তে পরিবারের সবাই মিলে মিশে হরিভজন করতে পারি তাহলে কৃষ্ণের কৃপায় আমরা সকল দুঃখ অতিক্রম করতে পারবো এবং এই ভব সাগর পাড়ি দিতে পারবো। শ্রীল ভক্তিবিনোদ ঠাকুর বলেছেন-
যেদিন গৃহে ভজন দেখি
গৃহেতে গোলক ভায়।
চরণ সিধু দেখিয়া গঙ্গা
সুখ নাহি সীমা পায়।।
হরেকৃষ্ণ...........!!!
💜💖💝জয় শ্রীল প্রভুপাদ........🙏🙏🙏
------------------------------------------------------------------------------
সদা সর্বদা শ্রী শ্রী রাধা ও কৃষ্ণের পাদপদ্মের কথা স্মরণ করুন, তাহলে শ্রীকৃষ্ণের দ্বারা আপনার জন্য বরাদ্দকৃত কার্য সম্পাদন করতে কোনও অসুবিধা অনুভব করতে হবে না।
জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে শ্রীকৃষ্ণের কৃপার প্রতি অগাধ বিশ্বাস ও ভরসা রাখতে হবে।
শ্রীকৃষ্ণের পবিত্র নামটিতে অসাধারণ আধ্যাত্মিক শক্তি রয়েছে কারণ শ্রীকৃষ্ণের নাম স্বয়ং শ্রীকৃষ্ণের থেকে আলাদা নয় ....
ঐকান্তিক ভালবাসা এবং নিষ্ঠার সাথে এই নামগুলি জপ করুন তবেই আপনি চিণ্ময় আনন্দ অনুভব করবেন:
হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে ...(১০৮ বার)
হরে কৃষ্ণ মহামন্ত্র জপ করুন এবং সুখী হন ...
জয় শ্রীল প্রভুপাদ🙌🙌🙌
জয় শ্রীল গুরুদেব🙌🙌🙌
আপনার বিনীত সেবক
সুন্দর নিত্যানন্দ দাস
দয়া করে পোস্টটির নিজস্ব মতামত জানান, এবং আপনার নিকটতম এবং প্রিয় ব্যক্তিদের সাথে লাইক ও শেয়ার করুন যাতে তারা ও কৃষ্ণভাবনাময় হওয়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত না হয়... 🙏🙏🙏

0 Comments